Picture

Picture
nil

Tuesday, December 11, 2012

"" মা ও বৃদ্ধাশ্রম ""

"" মা ও বৃদ্ধাশ্রম ""

আজ মাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে এলাম।
মনটা একটু খারাপ লাগছে বটে! কিন্তু ভালোও লাগছে এই ভেবে যে একটা কাজ ভালোভাবে শেষ করতে পারলাম। মার প্রতি দায়িত্বও শেষ হলো।
সংসারটা এবার নতুন করে গুছিয়ে নেব। মার ঘরটা গেস্টরুম বানাতে হবে।
বাসায় একটা গেস্টরুম ছিল না বলে লুনার কত অভিযোগ—বাসায় গেস্ট এলেওর নাকি মানসম্মান চলে যায়। ঠিকই তো বলেছে, গেস্টরুম একটা প্রয়োজন বৈকি!
মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর বুদ্ধিটাও তার।আমারও যে মত ছিল না, তা নয়।
মারও বোধ হয় এটাই ইচ্ছা ছিল। কারণ, তিনি আমাদের মতামতের কোনো বিরোধিতা করেননি।
তা ছাড়া বাবার মৃত্যুর পর মা খুবই নিঃসঙ্গ ছিলেন।
আমি ও লুনা—দুজনই চাকরিজীবী, অফিসে যাই।
মাকে কে সময় দেবে? ওখানে গিয়ে মা নিশ্চয়ই ভালো থাকবেন।
সমবয়সী অনেককে পাবেন সঙ্গী হিসেবে। নাহ্, কাজটা ভালোই করেছি।
আমার সব স্বপ্ন আমার পরিবারকে ঘিরে। লুনাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি।
আমাদের দুজনের সংসারে অনাবিল আনন্দ বয়ে এনেছে আমাদের সোনার টুকরো ছেলে।
তাকে পেয়ে আমার জীবনটা সত্যিই অন্য রকম হয়ে গেল।
আমার সব মনোযোগ এখন স্ত্রী-পুত্রের দিকে। বাবা-মাকে দেখার সময় কই...?
যেদিন বাবা মারা গেলেন, সেদিন একটু অপরাধবোধ মনে জেগেছিল।
মনে হয়েছিল, আমার অবহেলার জন্যই কি বাবা চলে গেলেন...?
বাবা স্ট্রোক করেছিলেন।হয়তো ভেতরে ভেতরে আরও অসুখ দানা বেঁধেছিল,
কিন্তু মুখ ফুটে কখনো কাউকে কিছু বলেননি তিনি। বাবাকে দেখতে তো সুস্থই দেখাত,
তাই কখনো তাঁকে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি।
............... পরিশিষ্ট
এতক্ষণ নিজের লেখা ডায়েরির কয়েকটি পাতা পড়ছিলেন আবীর চৌধুরী।
তাঁর চোখের কোণে পানি। এখন তাঁর বয়স পঁচাত্তর।
পাঁচ বছর আগে লুনা তাকে ছেড়ে চলে গেছে।
আর তাঁর আদরের ছেলে আনন্দ চৌধুরী আজ সকালে তাঁকে রেখে গেল বৃদ্ধাশ্রমে।
--- প্লিজ লেখাটি পড়ে ভাললাগলে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Thursday, November 3, 2011

A story only………আসল……… হজ্ব ………………..


দুই ছেলে হজ্বে যাবে তাই নিয়ে মাহবুব সওদাগরের বাড়ী খুব ব্যস্তনুতন বিয়ে ওদেরএখনি সময় হজ্ব করার, পরে বাচ্চাকাচ্চা হয়ে গেলে কঠিন হয়ে পড়বেলোকে মনে করে হজ্বটা বুড়ো বয়সের ব্যাপার বড্ড ভুল ধারণা কারণ হজ্বে খুবই শারীরিক পরিশ্রম হয়বড়ো ছেলে ছোটাছুটি করে যোগাড়যন্ত্র করছে কিন্তু ছোটকে নিয়ে মহাসমস্যাছোটবেলা থেকেই তার রহস্যের শেষ নেই, তার রঙ্গরসের পাল্লায় পড়ে চিরকাল সবাই অস্থিরবাবা প্রস্তুতির কথা জিজ্ঞেস করলেই সে বলে -
হচ্ছে বাবা হচ্ছে, চিন্তা কোরনাএ বছর যাদের হজ্ব কবুল হবে তাদের মধ্যে আমারাও থাকব ইনশাআল্লাহ্
বাবা আশ্বস্ত হন কিন্তু ছোটবৌ হয়নাতার বাবাও হজ্ব করেছে, সে জানে হজ্বে যেতে হলে কি হুলুস্থুল আয়োজন করতে হয়, কতো জায়গায় কতো ছোটাছুটি করতে হয়সে দিব্যি দেখতে পাচ্ছে স্বামী তার মহা আরামে গাএলিয়ে আছে, যোগাড়যন্ত্রের কোন খবরই নেইজিজ্ঞেস করলেই হেসে বলে –“আমারটা আমি করছি তুমি তোমারটা গুছিয়ে নাও তো, শেষে তোমার জন্য দেরি না হয়বৌ ত্রস্তে এটা ওটা গোছায় কিন্তু মনে গেঁথেই থাকে সন্দেহটাতার ওপর সেদিন স্বামী মাহবুব সওদাগরের কাছ থেকে হজ্বের নাম করে আরো এক লাখ টাকা চেয়ে নিল
কেন নিল?
তারপর একদিন বড় চলে গেল হজ্বের ক্যাম্পে বৌয়ের হাত ধরেবাবা ছোটকে জিজ্ঞেস করলেন -
তোর হজ্ব-ক্যাম্প, ফ্লাইট, এসবের কিছুই তো বললি না
ছোট হেসে বলে – ‘‘ক্যাম্পে কেন যাববাড়ি থেকে সোজা হজ্বে যাব ব্যবস্থা সবই হচ্ছে তুমি নিশ্চিন্ত থাকো তো বাবা’’
বাবা নিশ্চিন্ত হলেন, ছেলে তাঁর জীবনে কখনো মিথ্যে বলেনিযাবার দিন এলরওনা হবার সময় বাবা বুকে জড়িয়ে দোয়া করলেন, মা অশ্রুসিক্ত চোখে ছেলে-বৌয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে কি বললেন বোঝা গেল নাগাড়ির ড্রাইভার ডিগ্গির মধ্যে স্যুটকেস পুরে দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছেমাকে জড়িয়ে ধরে কপালে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে ছোট বলল -
মা, দশদিন পর ফিরবদোয়া করো আর শুটকি রান্না করে রেখো
বাবা অবাক হলেন – “দশদিন পর ফিরবি?’’
ফিরব বাবা, কথা দিচ্ছি হজ্ব করেই ফিরবঠাট্টা নয় বাবা সত্যি বলছি
বৌয়ের কানে গেল কথাটাসে জানে দশদিনে হজ্ব করে ফেরা যায় নাকিন্তু সে এ-ও জানে স্বামী যে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসে কথাটা বলেছে নিশ্চিন্ত হয়েই বলেছেযা সে বলেছে তা করবেকিন্তু কি করে করবে?
পেছনের সিটে বসল দুজন গাড়ী চলা শুরু করলে সে স্বামীর কানে কানে জিজ্ঞেস করে,
আমরা কোথায় যাচ্ছি গো? হ্যাঁ?’’
কোথায় আবার, হজ্বে যাচ্ছি
এভাবে কেউ হজ্বে যায়? আসলে কোথায় যাচ্ছি সত্যি করে বলোনা !’’
ছোট হেসে বলে – ‘‘হজ্বেই যাচ্ছিসবুর করো, একটু পরেই দেখতে পাবে
বৌ খুব সবুর করলতারপর আর পারল নাএকটু পরেই বলল -
বাবার কাছ থেকে এক লাখ টাকা বেশী নিলে কেন?’’
ছোট আবারও হেসে বলল – ‘‘সবুর করো, একটু পরে সেটাও দেখতে পাবে
বৌ আবারও খুব সবুর করলগাড়ী এসে দাঁড়াল বাস ষ্টেশনেবৌ বলল -
এ তো বাস ষ্টেশন” !
হ্যাঁ বাস ষ্টেশনই তো
বাসে করে হজ্বে যাচ্ছি?’’
হ্যাঁপথে কিছু কষ্ট করতে হবে পারবে তো?’’
আমরা হজ্বে যাচ্ছি নাবাসে করে কেউ হজ্বে যায় নাসবাইকে এভাবে ঠকালে”?
কাউকে ঠকাইনিএ বছর যাদের হজ্ব কবুল হবে তাদের মধ্যে আমারাও থাকব ইনশা আল্লাহ্ওখানে গিয়ে বলবে লাব্বায়েক্
মানে কি?’’
লাব্বায়েক মানে হল আমি হাজিরঅর্থা হে আল্লাহ, তুমি ডেকেছ, এই যে আমি হাজির হয়েছি
ড্রাইভার ডিগ্গি থেকে বাসে তুলে দিল স্যুটকেসগুলো, মৃদুহেসে বলল -
আপনেরে হাজার সালাম সারআপনেরে হাজার হাজার সালাম সারঅ্যামতেই ধীরে ধীরে মুসলমানের চৌক্ষু খুইলা দিব আল্লায়
ছোট গম্ভীর স্বরে বলল – ‘‘সব রওনা হয়ে গেছে ঠিকমতো? পরের এক লাখ টাকারটাও?’’
হ সারশ্যাষের চালান নিজের হাতে রওনা করাইয়া দিছি পরশু
এসব শুনে রমণীয় কৌতুহলের চাপে বৌয়ের অজ্ঞান হবার অবস্থা কিন্তু স্বামীকে মনে হচ্ছে অচেনাওই বুকে কি এক অস্থির ঝড় চলছে তা তার চোখ দেখলে বোঝা যায়তার সদা দুরন্ত কৌতুকময় চোখ দুটো এখন যেন ফ্রেমে বাঁধা ঝড়ের ছবিবাস চলা শুরু করলে বৌ বলল -
কোথায় যাচ্ছি আমরা?’’
রংপুর
রং পু ”? আঁকে উঠল বৌ, – ‘‘রংপুর কেন? ওখানে তো আমদের কেউ নেই !!’’
স্বামী শক্ত করে চেপে ধরল বৌয়ের হাতগভীর নিঃশ্বাসে শুধু বলল – ‘‘আমার হাত ধরে থাকো’’
এবার বৌয়ের হাতও আঁকড়ে ধরল স্বামীর হাত, বুঝল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে যা আগে কখনো ঘটেনিবাস চলছে সাভার পার হয়েস্বামী হাতের ব্যাগ খুলে বের করল কিছু খবরের কাগজ একটা একটা করে খুলছে আর সেই সাথে শক্ত দৃঢ় হয়ে আসছে তার চিবুক, ঠোঁটে শক্ত হয়ে চেপে বসছে ঠোঁটবার বার করে একটার পর একটা কাগজের কি যেন খবর পড়ছে ছবি দেখছে আর ঘন হয়ে আসছে তার নিঃশ্বাস
দুপুরে রংপুরে বাস থেকে নেমে ঘটঘটে বেবিট্যাক্সীতে গ্রামের পথবিকেলে দুর গ্রামের কাছাকাছি আসতেই কানে এল জনতার হৈ হৈকাছে এসে বৌ দেখল দাঁড়িয়ে আছে চাল-ডাল-আলু-পেঁয়াজ ভর্তি তিনটে ট্রাকভয়ংকর মঙ্গা দুর্ভিক্ষ চলছে উত্তরবঙ্গে, ক্ষুধার দাউ দাউ আগুনে পুড়ে যাচ্ছে কোটি মানুষশুকিয়ে যাওয়া অশ্রু চোখে লুটিয়ে ঘুমিয়ে আছে হাড্ডিসার শিশুকন্যা, হাড্ডিসার বালকচারদিকে অনাহার জর্জরিত নিরুপায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নিরুপায় যুবকঅন্য এক ভয়ংকর আতংকে আতংকিত ক্ষুধার্ত যুবতিগত মঙ্গায় শুধু দুটো নুন-ভাতের জন্য নোংরা ফড়িয়ার বিছানার দুঃসহ স্মৃতি আবার তার সামনে কালনাগিনীর ছোবল তুলে এদিক ওদিক দুলছেখবরের কাগজে সেসব পড়ছে আর ছবি দেখছে দেশের মানুষ কিন্তু চিনতে পারছে নাসরকারও চিনতে পারছে নাওরা এ দেশের নয়ওরা পরিত্যক্ত, ওদের কেউ নেই
পলকের জন্য টলে উঠল বৌয়ের মাথার ভেতর
কিন্তু এখন জনতার ক্ষুধিত আর্তনাদ বদলে হয়েছে উসবের চীকারট্রাকের ওপর থেকে তরুণ-কিশোরের দল মহা উসাহে ক্ষুধার্ত লোকজনের মধ্যে বিতরণ করছে চাল-ডাল আলু-লবণ তেলওড়নাটা কোমরে আচ্ছা করে পেঁচিয়ে ট্রাকের ওপরে দাঁড়িয়ে তাদের নেত্রীত্ব দিচ্ছে মাতবরের মেয়ে ফারহানা পিনু, গ্রামের বুড়োবাচ্চা সবার আপুমণিতার মায়াময় চেহারায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে
বৌ মুগ্ধ চোখে দেখল মানুষের আনন্দ, তারপর দুষ্টুমি করে বলল ঃ-
ও !! হজ্বের টাকায় দান-ধ্যান হচ্ছে তাহলে?’’
দান?’’ চকচক করে উঠল স্বামীর দুচোখ – ‘‘কিসের দান? কাকে দান? আশরাফুল মাখলুকাত ওরা, আপাততঃ একটু কষ্টে পড়েছে
আমিতো শুধু উপহার দিচ্ছি, মানুষের প্রতি মানুষের উপহার
মুগ্ধ বৌয়ের মুখ ফসকে বেরিয়ে এল – ‘‘তুমি একটা ফেরেশ্‌তা !’’
নাআমি ফেরেশ্‌তার চেয়েও বড়, আমি বনি আদমকোরাণ পড়ে দেখ, সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৬১
তারপর সে তার সেই পুরোন পরিচিত দুষ্টুমিভরা চোখে বললঃ-
আসলে কি জানো? ব্যবসায়ীর ছেলে তো আমি উপহারের নামে আমি আসলে ব্যবসা করছিধারের ব্যবসা শ্‌শ্‌শ্‌শ্ ……..কাউকে বোলনা
যেন!’’
ধারের ব্যবসা? এই দুর্ভিক্ষের দেশে?
বিষ্ময়ে বৌয়ের কথা আটকে গেল গলায়বাক্‌চাতুরীতে আর দুষ্টুমিতে স্বামী তার অনন্য, কিন্তু একের পর এক এত বিস্ময়ের ধাক্কা সে আর সামলাতে পারছে না
কিসের ধার? কাকে ধার ?’’
বুঝলে না? আল্লাহকে ধার দিচ্ছি, প্রচুর লাভ হবে বৌ !’’
আল্লাহকে ধার দিচ্ছ ? তওবা তওবা !’’
তওবা মানে? আল্লাহ নিজেই তো মানুষকে ডেকে ডেকে ধার চাচ্ছেন “!
আল্লাহ মানুষকে ডেকে ডেকে ধার চাচ্ছেন ? তওবা তওবা !’’
কিসের তওবা ? খুলে দেখ কোরাণ শরীফ – ‘‘এমন কে আছে যে আল্লাহকে দেবে উত্তম কর্জ, আর আল্লাহ তাকে দ্বিগুন বহুগুন বেশী করে দেবেন সুরা বাকারা আয়াত ২৪৫
কি আশ্চর্য্য !! এই দুর্ভিক্ষের সময়ে কেউ এ আয়াতের কথা দেশের সবাইকে বলে না কেন?’’
বলা দরকার, রেডিয়ো-টিভি খবরের কাগজ সব জায়গায় বলা দরকারঢাকায় ফিরে পড়ে দেখো সুরা মুয্‌যাম্মিল ২০, আত্ তাগাবুন ১৭
আর আল্ হাদীদ ১১‘‘আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও….যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও তিনি তোমাদের জন্য তা দ্বিগুন করে দেবেন
…….
কে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ-কে উত্তম ধার দেবে, এরপর তিনি তা বহুগুনে বৃদ্ধি করবেন, এবং তার জন্যে রয়েছে সম্মানিত
পুরষ্কার” , রোজ হাশরে বিশ ট্রাকেরও বেশী সওয়াব পাবতার সবটাই তোমাকে দিয়ে দেব যাও!’’
হেসে ফেলল বৌ, মনে মনে স্বামীগর্বে আবার গরবিনী হল সেস্বামী চলে ট্রাকের কাছেছুটে এল মাতবর আর ইমাম অনেক কথা হল তাদের মধ্যেবৌ মুগ্ধ চোখে দেখতে লাগল মানুষের আনন্দক্ষুধার্তের মুখে অন্ন তুলে দেবার মতো আনন্দ আছে? ক্ষুধার্তের মুখে অন্ন তুলে দেবার মতো ইবাদত আছে? দিগ†š— তখন সুর্য্য ডুবুডুবু, মন্দ মন্থরে সন্ধ্যা নামছেঝোপের ডালে উড়োউড়ি করছে একটা ফড়িং, মাটিতে ঘোরাঘুরি করছে নামহীন দুটো পোকা আর পাশ দিয়ে ছুটে যাচ্ছে একদল পিঁপড়েকি যেন কি নিয়ে ওরা সবাই খুব ব্যস্ত
ওদের কেউ কি কখনো না খেয়ে তিলে তিলে মরেছে ?
চমক ভাঙ্গল যখন স্বামী এসে বলল -
জানো, আমার দেখাদেখি অন্যেরাও কিছু পাঠাচ্ছে
আমার কিছু গয়না আছেতা থেকে কিছু নাহয়……..’’
গুড ! আমি চাই আমার বৌ বাচ্চাদের কোলে বসিয়ে হাত দিয়ে মুখে তুলে খাওয়াবে, আর আমি ছবি তুলব
তা খাওয়াব, কিন্তু ছবি তুলবে না
আশ্চর্য্য !! ছবি তুলবে না, কেমনধারা মেয়েমানুষ তো তুমি !’’
এসব ছবি তারাই তোলে যারা পত্রিকায় ছাপায় প্রচারের জন্য”.
তথাস্তু, ছবি ক্যানসেল, – প্রচারের জঞ্জাল আমাদের দরকার নেইশোনমন দিয়ে শোন
বৌ মন দিয়ে শুনল, অশরীরী এক দৃঢ়কণ্ঠে স্বামী তার ফিসফিস করে উঠল -
আমাদের বাড়িতে এককণা দানা থাকা পর্য্যন্ত মানুষের বাচ্চাকে না খেয়ে মরতে দেব না আমি’’
গভীর মমতায় বৌ বলল – ‘‘এত অস্থির হয়ো না, নিজেকে এত কষ্ট দিয়ো নামঙ্গা চিরদিন থাকবে নামানুষ আবার উঠে দাঁড়াবে, ফসল ফলাবে, বৌ বাচ্চা নিয়ে ভালই থাকবেতখন আমরা মক্কা-মদীনায় হজ্ব করতে যাব
নিশ্চয়ইহজ্বের তো বিকল্প নেই, সামনে বছর হজ্ব-এর বুকিং আমি দিয়েই এসেছি
স্বামী দৃঢ়পদে চলে গেল ট্রাকের কাছেসামনে ধু ধু খরা বন্ধ্যা জমি ওপরে অবারিত আকাশবৌ কল্পনায় দেখল এয়ারপোর্টে সাদা কাপড়ে মাথা কামানো হাজার হাজার আনন্দিত হজ্বযাত্রী হুড়োহুড়ি করে প্লেনে উঠছে আর বুকভরা তৃপ্তিতে বলছে ‘‘শুকুর আল্ হামদুলিল্লাহ”!! ওদিকে দুরে দাঁড়িয়ে ছোট্ট দুটো ক্ষুধার্ত ভাই-বোন হাত ধরাধরি করে করুণ চোখে তা দেখছে
ভাইটা আস্তে করে বলল – ‘‘বড় হইয়া তরে হজে লইয়া যামু
দ্বিধাগ্রস্ত ছোট্ট বোনটা কি যেন ভাবলতারপর ফিসফিস করে যেন নিজেকেই প্রশ্ন করল – “ওইহানে ভাত আছে”?
আবারও পলকের জন্য বৌয়ের মাথাটা টলে উঠল
মায়াময় গ্রামবাংলার হরি-সোনালী কোলাজের আঁচলপ্রা†š— ধীরে নামছে গ্রামবাংলার মায়াময় সন্ধ্যাচমক ভাঙ্গল যখন পেছন থেকে স্বামী এসে তার পাশে দাঁড়ালবৌ চোখ তুলে দেখল স্বামীর দুচোখে জ্বলছে হাজার জোনাকিসেই চোখ বৌয়ের দুচোখে গেঁথে স্বামী বলল -
জানো, নবীজি বলেছেন যার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে সে মুসলমান নয়যে মুসলমানই নয় তার আবার হজ্ব কি? চলো আমরা আগে মুসলমান হই’’
বৌ-এর হাত ছেড়ে সে সোজা হয়ে থমকে দাঁড়ালপুরো নিঃশ্বাসটা বুকের ভেতরে টেনে একটু আটকে নিল যেনতারপর দুহাত সোজা ওপরে তুলে আকাশের দিকে মুখ তুলে সর্বশক্তিতে চীকার করে উঠল – ‘‘লাব্বায়েক……..!’’
সেই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে ভেতর থেকে কাঁপিয়ে দিল বৌয়ের শরীর, দুচোখ থেকে অঝোর অশ্রুর সাথে অস্ফুটকণ্ঠে তারও মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল – ‘‘লাব্বায়েক! লাব্বায়েক!!’’
সুদুর পশ্চিমে দিগন্তবিস্তৃত মরুকেন্দ্রে কাবা শরীফের চারধারে তখন জলদমন্দ্রে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে লক্ষ কণ্ঠের আকুতি – ‘‘লাব্বায়েক……..!!!’’
[লেখক ওয়ার্লড মুসলিম কংগ্রেস-এর উপদেষ্টা বোর্ড-এর সদস্য, দ্বীন রিসার্চ সেন্টার, হল্যাণ্ড-এর রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, আমেরিকান ইসলামিক লিডারশিপ কোয়ালিশন-এর সদস্য, ফ্রিমুসলিম কোয়ালিশন-এর ক্যানাডা-প্রতিনিধি এবং মুসলিম ক্যানাডিয়ান কংগ্রেস-এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও ডিরেক্টর অফ শারিয়া ল।]